ধর্মীয় এসক্যাটোলজিক্যাল (End Times) দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক ধর্মীয় সম্প্রদায় আধুনিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে কেবল সামাজিক বা অর্থনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে নয়, বরং তাদের ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত শেষ যুগের (End Times) লক্ষণ বা প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও ব্যাখ্যা করে।
হিন্দুধর্মে, অনেক আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ আধুনিক বিশ্বের চরম উপাদানবাদ (materialism), প্রকৃতির অতিরিক্ত শোষণ এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত লাভের জন্য নৈতিকতার অবক্ষয়কে কলিযুগ (Kali Yuga)-এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেন। হিন্দু মহাজাগতিক সময়চক্র অনুযায়ী, কলিযুগ হলো এমন এক যুগ যেখানে ধর্ম, সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতা ক্রমশ হ্রাস পায়, আর লোভ, অর্থ ও ভোগবাদ মানুষের জীবনে প্রাধান্য বিস্তার করে। তাই তারা আধুনিক বিশ্বায়ন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে কেবল উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং কলিযুগের চরম প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং এর প্রতিকারে আত্মিক জাগরণ, ধর্মাচরণ ও নৈতিক জীবনের আহ্বান জানান।
খ্রিস্টধর্মে, বিশেষ করে কিছু ইভানজেলিক্যাল ও ডিসপেনসেশনালিস্ট খ্রিস্টান গোষ্ঠী, ইমপ্লান্টযোগ্য মাইক্রোচিপ (RFID/NFC), ডিজিটাল আইডি, বায়োমেট্রিক পরিচয় এবং ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারকে "Mark of the Beast" (পশুর ছাপ)**-সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন। বাইবেলের Book of Revelation এ এমন একটি সময়ের উল্লেখ রয়েছে, যখন একটি নির্দিষ্ট "ছাপ" ছাড়া কেউ কেনাবেচা করতে পারবে না। এই কারণে তারা আধুনিক ডিজিটাল পরিচয় ও নগদবিহীন অর্থনীতির দ্রুত প্রসারকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখেন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তবে উল্লেখ্য, এই ব্যাখ্যা সব খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অভিন্ন অবস্থান নয়; অনেক খ্রিস্টান এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে প্রতীকী বা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন।।